মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ন
সিগারেটের দাম বাড়লে বাঁচবে লাখো তরুণের জীবন!
অনলাইন ডেস্ক
আসন্ন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের চার স্তরের বিদ্যমান মূল্য কাঠামো কমিয়ে তিনটি স্তরে নামিয়ে আনার এবং দাম বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন দেশের উদ্যমী তরুণ চিকিৎসকরা।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং সন্ধানী কেন্দ্রীয় পরিষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে চিকিৎসকরা এ দাবি জানান।
তাদের বক্তব্য, বর্তমান চার স্তরের (নিম্ন, মধ্যম, উচ্চ ও প্রিমিয়াম) মূল্যব্যবস্থা তামাক কর নীতিকে দুর্বল করছে। বিশেষ করে, নিম্ন ও মধ্যম স্তরের দামের ব্যবধান এতই কম যে ভোক্তারা অনায়াসেই এক স্তর থেকে অন্য স্তরে চলে যেতে পারছেন। তাই এই দুটি স্তর একীভূত করে দাম বাড়ালে দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও তরুণদের জন্য ধূমপান করা কঠিন হবে। এতে একদিকে স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
তাদের প্রস্তাবিত কর ও মূল্য কাঠামো হলো: নিম্ন ও মধ্যম স্তর একত্র করে প্রতি ১০ শলাকার খুচরা মূল্য ৯০ টাকা নির্ধারণ, উচ্চ স্তরে ১৪০ টাকা অপরিবর্তিত রাখা এবং প্রিমিয়াম স্তরে ১৯০ টাকা নির্ধারণ। একইসঙ্গে, খুচরা মূল্যের ওপর ৬৭% সম্পূরক শুল্ক, ১৫% মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও ১% স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখার দাবি জানানো হয়।
তারা বিড়ি ও অন্যান্য তামাকপণ্যের দামও বাড়ানোর আহ্বান জানান। ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকা বিড়ির দাম ২৫ টাকা এবং ফিল্টারযুক্ত ২০ শলাকার দাম ২০ টাকা নির্ধারণ করে ৪৫% সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এছাড়া, ১০ গ্রাম জর্দার দাম ৫৫ টাকা এবং ১০ গ্রাম গুলের দাম ৩০ টাকা নির্ধারণ করে ৬০% সম্পূরক শুল্ক আরোপের দাবি তোলা হয়।
সন্ধানী ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল ও আপডেট ডেন্টাল কলেজ ইউনিটের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার (৩৫.৩%) সবচেয়ে বেশি। কারণ এখানে তামাকপণ্যের দাম তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ফলে তরুণরা সহজেই আসক্ত হয়ে পড়ছে। তাদের হাতের নাগালের বাইরে নিতে কর ও মূল্য বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।” তিনি যোগ করেন, “সরকার যদি আমাদের প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন করে, তাহলে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব অর্জন সম্ভব হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে ৯ লাখ তরুণসহ মোট ১৭ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু ঠেকানো যাবে।”
মানববন্ধনে ইব্রাহীম কার্ডিয়াক হাসপাতালের ভাস্কুলার সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. সাকলায়েন রাসেল বলেন, “এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সিগারেট ব্যবহারের হার ১৫.১% থেকে কমে ১৩.০৩%-এ নেমে আসবে। এতে ২৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান ছাড়তে আগ্রহী হবে এবং ১৭ লাখ তরুণ ধূমপান শুরু করার আগেই থেমে যাবে।” তিনি আরও বলেন, “এতে সরকারের রাজস্ব আয় ৬৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাবে, যা গত বছরের তুলনায় ৪৩% বেশি।”
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সমন্বয়ক ডা. অরুনা সরকার, সিনিয়র কমিউনিকেশন অফিসার আবু জাফর, সন্ধানী কেন্দ্রীয় পরিষদের উপদেষ্টা ডা. আয়েশা সিদ্দিকাসহ দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের শতাধিক তরুণ চিকিৎসক।